যৌবনের ছাপ ধরে রাখতে সানিয়ার ভরসা ‘রেড লাইট’ থেরাপি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
টেনিস কোর্টে নিজের দক্ষতা দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। অবসরের পরও ফিটনেস ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও মনোযোগী তিনি। এবার তার রূপচর্চার রুটিনে আলোচনায় এসেছে ‘রেড লাইট’ থেরাপি।
প্রায় ৪০ বছর বয়সী সানিয়া সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, গত এক বছর ধরে ত্বকের পরিচর্যায় এই থেরাপি ব্যবহার করছেন তিনি। তার দাবি, নিয়মিত থেরাপি নেওয়ার পর ত্বক ও চুলে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন। তবে এই অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
২০২৩ সালে পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নেন সানিয়া। সাত বছর বয়সী সন্তানের মা এই তারকা নিজের ত্বকের যত্নে বেশ সময় দেন। সকালে প্রায় ১০ ধাপে ত্বকের পরিচর্যা করেন তিনি। রাতেও ঘুমানোর আগে অনুসরণ করেন একাধিক ধাপের রূপচর্চার রুটিন। কোরীয় সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন পদ্ধতির প্রতিও আগ্রহ রয়েছে তার।
কী এই রেড লাইট থেরাপি?
রেড লাইট থেরাপি একধরনের আলোকভিত্তিক পদ্ধতি, যা লো-লেভেল লাইট থেরাপি নামেও পরিচিত। এতে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো এবং কিছু ক্ষেত্রে কাছাকাছি-ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করা হয়। ত্বকের কোষের কার্যকলাপে প্রভাব ফেলা এবং কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তার সম্ভাবনার কারণে ত্বকের যত্নে পদ্ধতিটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে রেড লাইট থেরাপি ত্বকের সূক্ষ্ম বলিরেখা, প্রদাহ এবং ত্বকের গঠনের কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি আনতে পারে। তবে ফলাফল নির্ভর করে ব্যবহৃত যন্ত্র, আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, প্রয়োগের মাত্রা এবং ব্যক্তির ত্বকের অবস্থার ওপর।
চুলের যত্নেও ব্যবহার
ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও রেড লাইট থেরাপি ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে সব ধরনের চুল পড়ার জন্য এটি কার্যকর— এমন প্রমাণ নেই। চুল পড়ার কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
চিরযৌবনের নিশ্চয়তা নয়
রেড লাইট থেরাপি নিয়ে আগ্রহ থাকলেও একে বয়সের ছাপ পুরোপুরি মুছে ফেলার বা চিরযৌবন ধরে রাখার নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না, আর দৃশ্যমান পরিবর্তন পেতেও সময় লাগতে পারে।
এ ছাড়া যন্ত্রের মান ও ব্যবহারের নিয়ম নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে চোখের সুরক্ষার বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না।
সানিয়া মির্জা নিজের অভিজ্ঞতায় ত্বক ও চুলে উপকার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সবার জন্য একই ফলের নিশ্চয়তা মেলে না।
এফএইচ/বিএ/পিআর