ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

সোনারগাঁও র‍্যাম্প চালুতে সময়সীমা বেঁধে দিল সেতু বিভাগ, ইউটিলিটি সরাতে এক সপ্তাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৪৫, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁও র‍্যাম্প চালুতে সময়সীমা বেঁধে দিল সেতু বিভাগ, ইউটিলিটি সরাতে এক সপ্তাহ

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় সোনারগাঁও EN-2 র‍্যাম্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়েতে আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতেও সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিংয়ে (সিসিবি) প্রকল্পের মাসিক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

সভায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান নির্মাণকাজ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অর্থসংস্থানের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন।

সভায় সেতু বিভাগের সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে সোনারগাঁও EN-2 র‍্যাম্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ইউটিলিটি স্থানান্তরে এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সভা

এক্সপ্রেসওয়ের রুটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সেবা সংস্থার ইউটিলিটি অপসারণ ও স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অনিষ্পন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের নির্দেশ দেন সেতু বিভাগের সচিব।

ইউটিলিটি স্থানান্তর ও প্রতিস্থাপন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ আহমেদ শাফি সভায় জানান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ওয়াসা ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। ব্যয় সাশ্রয় করে কাজটি সম্পন্ন করতে ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড (২৪ ইসিবি) কাজ করছে।

এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে নির্বিঘ্ন ও আধুনিক টোল আদায় নিশ্চিত করতে ইউনিফায়েড ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থসংস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্য

প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান দ্রুত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডকে (FDEE) এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম শেষ করার অনুরোধ জানান।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকল্পের অর্থসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ প্রকল্পের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন সোনারগাঁও EN-2 র‍্যাম্পের নির্মাণকাজে গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেন।

পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে সেতু বিভাগের সচিব নির্ধারিত সময়সীমা ও নির্মাণের গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত