হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বামপন্থিদের নেতৃত্ব আরও এক মেয়াদের জন্য নিশ্চিত হলো।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ। ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্ট (টিএসই) ফল ঘোষণা করে। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৪৪ লাখ।
প্রথম দফায় পিছিয়ে, শেষ লড়াইয়ে জয়
নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। সেখানে ভোটারদের সমর্থন বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন লুলা। ব্রাজিলের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথম দফায় এগিয়ে থাকা প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় পরাজিত হওয়ার ঘটনা বিরল রাজনৈতিক পালাবদল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
কে এই ফ্লাভিও বলসোনারো?
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং দেশটির একজন সিনেটর। ডানপন্থি রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে তিনি লুলাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছিলেন। তবে দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান গড়ে জয় তুলে নেন লুলা। নির্বাচনের ফল নিয়ে ফ্লাভিও আপত্তি তুলেছেন এবং ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
লুলার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
লুলার এই জয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নীতি এবং রাজনৈতিক বিভাজন ছিল এবারের নির্বাচনের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে। নতুন মেয়াদে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার চাপ থাকবে তাঁর সরকারের ওপর।
লুলার নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি। তাঁর এই জয়কে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থি রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে বামপন্থিদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর