ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তার আগেই আকাশছোঁয়া ইলিশের দাম

চাঁদপুর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯:৪৯, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তার আগেই আকাশছোঁয়া ইলিশের দাম

পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের ইলিশ আহরণ নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার পর। নিষেধাজ্ঞার আগে বাজারে তাজা ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুরের বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে রুপালি ইলিশের দাম। এতে ইলিশ কিনতে এসে অনেকটা হতাশ হয়েই ফিরছেন ক্রেতারা।

বুধবার সকালে জেলার মতলব বাজার, নারায়ণপুর বাজার, মুন্সিরহাট ও নায়েরগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ইলিশের দাম বেশ চড়া। ছোট আকারের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক বেশি দামে। বড় ইলিশের দাম তো ছুঁয়েছে আরও উঁচুতে।

বাজারে ২০০ গ্রাম ওজনের ছোট আকারের চারটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে।

মতলব বাজারে মাছ কিনতে আসা ছানাউল্লাহ বলেন, রাত থেকেই নদীতে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। এ কারণে এখন জেলেরা ঘাটে ফিরেছেন এবং বাজারে তাজা ইলিশের চাহিদাও বেড়েছে। ফলে দামও অনেক বেড়ে গেছে।

ক্রেতা জাইমা আক্তার বলেন, ‘ইলিশের দাম এখন স্বর্ণের দামের মতো হয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও দাম কমছে না। ইচ্ছা থাকলেও বেশি দামের কারণে ইলিশ কিনে খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

মতলব বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুকুমার দাস বলেন, এ মৌসুমে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেছে। তবে তাজা ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। বিশেষ করে বড় ইলিশের চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি। তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ রাত থেকে। এ সময়ে নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত