ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

‘আত্মরক্ষায় অস্ত্র তুলেছি’, ইশরাকের দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪৪, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘আত্মরক্ষায় অস্ত্র তুলেছি’, ইশরাকের দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। গেণ্ডারিয়ার রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিষয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেণ্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।

তিনি জানান, গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্রও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে নেওয়ার দাবি

অভিযানে অস্ত্র হাতে নেওয়ার ব্যাখ্যায় ইশরাক বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল।

বিবৃতিতে তাঁর ভাষ্য, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। তখন সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

ইশরাক দাবি করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, ছয়জন আটক

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেণ্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানায় যৌথ অভিযান চালানো হয়।

তাঁর দাবি, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেণ্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারের অভিযোগ

কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, অভিযানের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও শিরোনাম পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেনি।

প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানে পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয় এবং ছয়জনকে আটকের তথ্য উপেক্ষা করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

মাদকবিরোধী অভিযানে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য, খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত