ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

‘কোথাও না’—মেসির বিকল্প কোথায়, প্রশ্নে চোখের জলে স্কালোনির উত্তর

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০১, ৭ অক্টোবর ২০২৬

‘কোথাও না’—মেসির বিকল্প কোথায়, প্রশ্নে চোখের জলে স্কালোনির উত্তর

একজন কোচের চোখে জল। সামনে হাজারো দর্শক। আর সেই কান্নার পেছনে একজন মানুষ—লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনিও। তাঁর কণ্ঠে ছিল গর্ব, কৃতজ্ঞতা আর প্রিয় অধিনায়ককে হারানোর শূন্যতা।

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে রাঙিয়েছেন বিদায়। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০৮ ম্যাচ ও ১২৬ গোলের পর জাতীয় দলের অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

ম্যাচের ফলাফল যতটা আলোচনায়, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল আবেগ। মেসি নিজে কেঁদেছেন, কেঁদেছেন সতীর্থরা, গ্যালারিতে চোখ ভিজেছে সমর্থকদের। সেই আবেগ ছুঁয়ে গেছে স্কালোনিকেও।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে নিজের অনুভূতি লুকাতে পারেননি আর্জেন্টাইন কোচ। মেসিকে নিয়ে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর গলা ভারী হয়ে আসে, চোখেও দেখা যায় জল।

স্কালোনির কাছে মেসির সঙ্গে কাজ করাটা ছিল স্বপ্নের মতো। তাঁর কোচিংয়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপসহ একাধিক বড় শিরোপা। মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে গৌরবময় সময়ের একটি অধ্যায় লেখা হয়েছে।

মেসিকে নিয়ে স্কালোনির অনুভূতি ছিল আরও গভীর। তিনি বলেন, ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের একজনকে কোচিং করাতে পারাটা তাঁর জন্য অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। মেসির সঙ্গে থাকার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবেন।

কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে স্কালোনি জানান, মেসিকে আর জাতীয় দলের সঙ্গে দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে।

আর সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি ছিল—মেসির জায়গা কে নেবেন?

স্কালোনির উত্তরও ছিল সরল, কিন্তু ভীষণ অর্থবহ—কেউ না।

তাঁর মতে, আর্জেন্টিনায় নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে। তরুণদের নিয়ে দল গঠনের কাজও চলছে। ভবিষ্যতে নতুন তারকারা আসবেন, নতুন অধিনায়ক আসবেন, নতুন সাফল্যের গল্পও লেখা হবে। কিন্তু মেসির মতো একজন ফুটবলারকে তৈরি করে তাঁর জায়গায় বসানো সম্ভব নয়।

স্কালোনির ভাষায়, পাশে মেসিকে থাকার যে অনুভূতি, তার সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না।

কারণ মেসি শুধু একজন গোলদাতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি ম্যাচের গতিপথ এক মুহূর্তে বদলে দিতে পারতেন। রক্ষণ জমাট হয়ে গেলে একটি পাস, একটি ড্রিবল কিংবা এক ঝলক বাঁ পায়ের জাদুতেই খুলে যেত ম্যাচের বন্ধ দরজা।

স্কালোনির চোখে মেসির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর সেই অদৃশ্য ‘আভা’। এমন উপস্থিতি, যা মাঠে নামার আগেই প্রতিপক্ষের মনে চাপ তৈরি করত এবং সতীর্থদের মধ্যে ছড়িয়ে দিত আত্মবিশ্বাস।

বেনিনের বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির দুটি অ্যাসিস্টে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজ। এরপর পেনাল্টি থেকে নিজেই করেন তৃতীয় গোলটি। বিদায়ী ম্যাচটিকেও যেন নিজের মতো করেই সাজিয়ে নিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

কিন্তু শেষ বাঁশির পর আর কোনো জয়-উল্লাস নয়—চারদিকে ছিল বিদায়ের বিষণ্নতা।

মেসি চলে গেলেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে। থেকে গেল তাঁর ২১ বছরের স্মৃতি, অসংখ্য গোল, অ্যাসিস্ট, শিরোপা আর কোটি মানুষের ভালোবাসা।

নতুন খেলোয়াড়রা আসবেন। নতুন দল তৈরি হবে। আর্জেন্টিনা আবারও জিতবে—হয়তো নতুন কোনো নায়কও উঠে আসবেন।

কিন্তু স্কালোনির চোখের জল যেন বলে দিল, মেসির শূন্যতা পূরণ করার মতো কেউ নেই।

কারণ কিছু খেলোয়াড়ের বিকল্প হয় না।

তাঁদের বিদায়ের পর শুধু একটি জায়গা খালি থাকে না—একটি যুগেরও শেষ হয়।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত