ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

‘জ্ঞানেশের পর মোদি-অমিতের পালা, থামানো যাবে না’—দিল্লিতে পদযাত্রায় রাহুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬

‘জ্ঞানেশের পর মোদি-অমিতের পালা, থামানো যাবে না’—দিল্লিতে পদযাত্রায় রাহুল

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে পদযাত্রা করেছেন বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ পদযাত্রা সুপ্রিম কোর্টের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়।

পদযাত্রার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “এখানে আলাদা কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। সিইসির অপসারণ দাবিতে এটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পালা। আমাদের থামানো যাবে না।”

রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপে পড়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে পুলিশের বাধা

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদযাত্রাটি প্রায় দুই কিলোমিটার অগ্রসর হওয়ার পর ভগবান দাস রোডে পুলিশ আটকে দেয়। জায়গাটি সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে।

পদযাত্রায় রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের বাধার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ইন্ডিয়া টুডে-র সরাসরি সম্প্রচারে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় একটি ট্রাকের ওপর রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন নেতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সিইসির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেছেন বিরোধী নেতারা।

পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব।

বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তবে রাহুল গান্ধীর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে কড়াকড়ি

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেদিন দিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর এক দিন পর কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন করে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হলো।

এদিকে তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। তবে যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি পুলিশ তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে দেয়—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

আটক অবস্থা থেকে মুক্তির পর রোববার সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির নেতারা দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমালোচনা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সিইসির পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের এই কর্মসূচি ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস, আল-জাজিরা ও ইন্ডিয়া টুডে

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত