উত্তরায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের অবরোধ, টিয়ারশেল ছুড়ে সরাল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর উত্তরায় বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া দিয়ে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে উত্তরা এলাকার আজমপুর ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে উত্তরা এলাকার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ তুলে নিতে পুলিশ কয়েক দফায় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে শ্রমিকেরা অবরোধ চালিয়ে গেলে বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দেয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ। তাঁদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে সমাধান না পাওয়ায় তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শ্রমিকদের এই কর্মসূচি টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছিল। অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশের সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশি ধাওয়ার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এফএইচ/বিএ/পিআর