ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

কুয়াশা-শিশিরে বদলে গেছে পলাশবাড়ীর ভোর, দরজায় কড়া নাড়ছে শীত

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯:৪৫, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কুয়াশা-শিশিরে বদলে গেছে পলাশবাড়ীর ভোর, দরজায় কড়া নাড়ছে শীত

শরতের শেষ প্রহরেই যেন প্রকৃতির সাজে এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ভোরের আলো ফোটার আগেই চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার নরম চাদরে। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির ঝলমল করছে, ধানখেতের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা ধোঁয়াশা। মেঠোপথ, গাছপালা আর দূরের জনপদ কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে গিয়ে তৈরি করছে এক মায়াময় পরিবেশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। ভোরের হিমেল বাতাস আর কুয়াশার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, শরতের বিদায়ঘণ্টা বাজছে—ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীত।

সূর্যের আলো ওঠার আগ পর্যন্ত গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল কুয়াশার আধিপত্য। কোথাও ঘন কুয়াশায় কয়েক হাত দূরের দৃশ্যও অস্পষ্ট, আবার কোথাও পাতলা কুয়াশার ভেতর দিয়ে গাছের ডালপালা ও ফসলের মাঠ দেখা যাচ্ছিল আবছাভাবে। মনে হচ্ছিল, সাদা চাদরে মোড়ানো কোনো ছবির ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে গ্রামবাংলা।

ধানগাছের পাতায় পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু ভোরের আলোয় চিকচিক করছিল। সবুজ ঘাসের ওপর ছোট ছোট জলকণা যেন প্রকৃতির হাতে ছড়িয়ে দেওয়া অসংখ্য মুক্তো। পুকুরের পানি, বাঁশঝাড়, তাল-খেজুরগাছ আর গ্রামের মেঠোপথ—সবকিছুতেই ছিল শরতের ভোরের আলাদা সৌন্দর্য।

কুয়াশার আবরণ ভেদ করে দূর থেকে ভেসে আসছিল পাখির ডাক। কোথাও কৃষকের হাঁটার শব্দ, কোথাও গবাদিপশুর ঘণ্টাধ্বনি। ভোরের নীরবতা ভেঙে ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল গ্রাম। কৃষকরা শিশিরভেজা মাঠ পেরিয়ে যাচ্ছিলেন ফসলের পরিচর্যায়। কারও হাতে কাস্তে, কারও কাঁধে কৃষি সরঞ্জাম—কর্মব্যস্ততার মধ্যেও প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করছিলেন অনেকেই।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপটও বদলে যেতে থাকে। কুয়াশার পর্দা ধীরে ধীরে সরিয়ে সূর্যের মিষ্টি রোদ যখন মাঠে ছড়িয়ে পড়ে, তখন শিশিরবিন্দুতে ঝিলিক ওঠে। স্পষ্ট হয়ে ওঠে সবুজ ধানখেত, গাছপালা ও গ্রামের ঘরবাড়ি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা কুয়াশার জায়গা নেয় সোনালি রোদের উষ্ণতা।

স্থানীয় সাংবাদিক এসআই হাবিব বলেন, কয়েক দিন ধরেই ভোরের আবহাওয়ায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কুয়াশা, শিশির ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে সকালে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। দিনের তুলনায় ভোরের প্রকৃতিতে এখন স্পষ্টভাবেই ভিন্ন আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।

গবাদিপশু চিকিৎসক লিপন বলেন, ভোরে ঠান্ডাভাব থাকলেও দিনের বেলায় এখনো গরম অনুভূত হচ্ছে। ফলে সকালে শীতের আবহ এবং দিনের বেলায় উষ্ণতা—দুই ধরনের আবহাওয়া একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ভোরের কুয়াশা আর শিশির এখন প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ের আশপাশে ভোরের ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে বেশি। পাতলা চাদর গায়ে জড়িয়ে অনেককে সকাল শুরু করতে দেখা যাচ্ছে।

তবে দিনের তাপমাত্রা এখনো প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকায় শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে না। বরং ভোর ও দিনের আবহাওয়ার মধ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।

প্রকৃতির এই রূপবদল যেন ঋতুচক্রের নীরব বার্তা। শরতের নীল আকাশ ও সাদা মেঘের দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে গ্রামবাংলার ভোর দখল করে নিচ্ছে কুয়াশা। শিশিরভেজা ঘাস, মেঠোপথের ধোঁয়াশা আর হিমেল বাতাসে পলাশবাড়ীর সকাল এখন আগাম শীতের আবেশে ভিন্ন এক সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত