ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

ধর্ম-বর্ণে ভেদ নয়, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চান তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:৪৭, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম-বর্ণে ভেদ নয়, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চান তারেক রহমান

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা কিংবা সম্প্রদায়ের পরিচয় যেন কোনো নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার পথে বাধা না হয়—এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে ধর্মীয় বা অন্য কোনো পরিচয় মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের কারণ হবে না।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, “সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব।”

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে দুর্গাপূজার আনন্দ আরও বেড়েছে।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। অন্যদিকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের ধর্মীয় উৎসব ‘কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান।

মতবিনিময় সভা শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চাইলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকা।

বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ অনুদানের অর্থ হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

দুর্গাপূজা ও কঠিন চীবর দান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সুবর্ণ ঠাকুর শিকদারসহ হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত