কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ জনকে হারালেন নূর আলম
কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:০৬, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, পাঁচ বছরের সন্তান, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারিয়েছেন নূর আলম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন একটি কাঠের রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন।
নিহত ছয়জন হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, নূর আলমের শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহতদের মধ্যে নাফিসতা মীম (২৭) নামে আরেক নারীর পরিচয়ও জানা গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলম প্রথম আলোকে জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে পেশাগত কাজে শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেন। পরে জানতে পারেন, নিহত ছয়জনই তাঁর পরিবারের সদস্য।
নূর আলম বলেন, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। এর আগে বুধবার স্ত্রী-সন্তানসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন। স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এই ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। প্রায় আট বছর ধরে তিনি কর্মসূত্রে চুয়াডাঙ্গায় থাকছেন। পেশাগত কারণে স্ত্রী-সন্তানসহ শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বেলা সোয়া দুইটার দিকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। সে সময় তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে এবং উদ্ধার অভিযান চলছিল।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০), তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।
আহত ইসমাইল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা নিহত ফারিয়া কবিরের মামা ও মামি। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে।
হতাহতদের স্বজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আহাদ জানান, শনিবার সকালে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে এতজন স্বজনকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
এফএইচ/বিএ/পিআর