সৌদিগামীদের ভোগান্তির শেষ নেই, শাহজালালে বাতিল ৬২ ফ্লাইট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২১, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী ও ট্রানজিটের মোট ৬২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসছেন অনেক যাত্রী। বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পেরে বিপাকে পড়ছেন তাঁরা। তাঁদের বিদায় জানাতে আসা স্বজনদেরও পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য আগেভাগে জানানো হলে তাঁদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। সময়মতো তথ্য না পাওয়ায় অনেকে দূরদূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে বিপাকে পড়ছেন।
যেসব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়ার ৫টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
যাত্রীদের সহায়তায় এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে চিঠি দেন। এতে সৌদি আরবে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইনসকে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফ্লাইটের বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের তথ্য যাত্রীদের এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানাতে হবে। পাশাপাশি ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, পরিবর্তিত যাত্রার সময়, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
খাবার-পানিসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিতের নির্দেশ
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে আটকে পড়া এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে না জেনে সেখানে আসা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। তাঁদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, নাশতা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি এয়ারলাইনসকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। প্রত্যেকের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে এসব রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
এফএইচ/বিএ/পিআর