ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

পুলিশকে শক্তিশালী করতে হবে, না হলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা কঠিন: আইজিপি

বাগেরহাট সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১:২৭, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশকে শক্তিশালী করতে হবে, না হলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা কঠিন: আইজিপি
পুলিশকে শক্তিশালী করতে না পারলে দেশের মানুষ দিন-রাত স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, জনগণের সার্বিক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইজিপি।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে যারা দুর্বল করতে চায়, তাদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না। দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত দুই মাসে ২৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে নিজেদের ভেতরের অনিয়ম ও অপরাধ দূর করতে হবে। বাহিনীকে যারা দুর্বল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁদের মাদক নির্মূলের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁদের নিজেদেরই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা চলবে না। পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভালো কাজ করলে চাকরি হারানোর ভয় থাকার কথা নয় উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান।

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে যানবাহন কেনার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জনবলের ঘাটতি পূরণে প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নতুন সদস্য নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছিল উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এ জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণকে পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাড়া-মহল্লায় অপরাধবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে আইজিপি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ মানুষ বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন। কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকে অর্থ জমা রাখলেও নতুন বিনিয়োগ করছেন না। বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি কঠিন হবে।

তরুণদের মেধা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তরুণদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা কমার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

আইজিপি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মানবিক, জনবান্ধব ও বন্ধুসুলভ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News