মন্ত্রিত্ব ছাড়ার কারণ জানালেন ইশরাক, তোপ গণমাধ্যমকে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দলকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না—এমন যুক্তিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ছবি ও তা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
ইশরাক জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদক নির্মূলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে কয়েকশ নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ইশরাক। সেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইশরাকের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন। এ সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য তাঁর কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। কিন্তু ওই ঘটনার ছবি প্রকাশের পর মূলধারার গণমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের বয়ান তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা তাঁকে হতাশ করেছে। কেন তাঁকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিতর্কের কারণে দল ও সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক, তা চাননি বলে জানান ইশরাক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গিয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না ইশরাক। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে কাজ করার অনুমতিও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ইশরাকের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে তিনি দল ও সরকারকে বিতর্কের বাইরে রাখার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।
অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়া, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে তাঁর আপত্তি এবং পদত্যাগের ব্যাখ্যা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর