বেরোবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নেই রিডিং রুম, বারান্দায় বসেই পড়েন শিক্ষার্থীরা
বেরোবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৩, ২২ অক্টোবর ২০২৬
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আলাদা রিডিং রুম না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। চাকরির প্রস্তুতি কিংবা নিজস্ব বই নিয়ে পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে লাইব্রেরির বারান্দায় বসে পড়ছেন তাঁরা। এতে রোদ-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট ও দীর্ঘ ১৮ বছরেও লাইব্রেরিতে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় পাঠকসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি দুই তলাবিশিষ্ট। নিচতলায় রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব ও আর্কাইভ। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে অনুষদভিত্তিক পাঠকক্ষ ও জার্নাল কর্নার। তবে চাকরির প্রস্তুতির বই কিংবা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সংগ্রহের বই নিয়ে পড়ার জন্য আলাদা কোনো রিডিং রুম নেই। ফলে লাইব্রেরির বাইরের বারান্দায় বসেই পড়াশোনা করতে হচ্ছে অনেককে।
লাইব্রেরির ভেতরে তুলনামূলক কমসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পড়তে দেখা গেলেও বারান্দায় ছিল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। তাঁদের কেউ চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত একাডেমিক পড়াশোনায়। তবে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় এবং আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগভিত্তিক প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট রয়েছে লাইব্রেরিতে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন সংস্করণের বইও পাওয়া যায় না। ফলে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যা সাতটার পর লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে গেলে বারান্দায় পড়তে থাকা শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ক্যাফেটেরিয়া এলাকা কিংবা আবাসিক হলে যেতে হয়। এ সমস্যা সমাধানের দাবিতে তাঁরা একাধিকবার আন্দোলন করেছেন। এমনকি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে লাইব্রেরির পরিসর সম্প্রসারণ, সাইকেল রাখার গ্যারেজ নির্মাণ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে টিউবওয়েল সংস্কারের মতো দাবিগুলো এখনো পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে চালু হয়নি অটোমেশন ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সার্ভার কেনা হলেও সেটি এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আধুনিক সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাবেরা শাপলা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অন্যতম প্রধান জায়গা। কিন্তু বাইরে থেকে বই নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে পড়তে দেওয়া হয় না। আবার আলাদা রিডিং রুম না থাকায় চাকরির প্রস্তুতি কিংবা নিজস্ব বই নিয়ে পড়াশোনা করতে সমস্যায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে বারান্দায় বসে পড়তে হয়। রোদ-বৃষ্টির সময় সেখানে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হোক।”
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মমিন ইসলাম বলেন, “লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় অনেক বই ও নতুন সংস্করণের বই পাওয়া যায় না। অটোমেশন ব্যবস্থাও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, লাইব্রেরির পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ, অটোমেশন চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লাইব্রেরিতে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে শৌচাগার নির্মাণ ও লাইব্রেরি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এফএইচ/বিএ/পিআর