ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৫৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন

প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ এবং নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, আজকের অর্জিত সনদ তাঁদের আলোকিত ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত এবং বাবা-মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। তাঁদের অবদান সব সময় স্মরণে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আইইউটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আইইউটির গ্র্যাজুয়েটরা দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয় ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একাধিকবার আইইটি ক্যাম্পাসে আসার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও শিক্ষা ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস ও ডেটা বিশ্লেষণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, প্রযুক্তি তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারলেও এর ব্যবহার কোন পথে পরিচালিত হবে, তা নির্ভর করে মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধের ওপর।

তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েটদের লক্ষ্য যেন শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমাজ, মানবজাতি, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। সিলিকন ভ্যালির বাইরেও আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যবোধের মধ্যে মিল রয়েছে। তাই জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবকল্যাণে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ ছাড়া সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী অর্জন করেন ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’। অন্য ছয়জন শিক্ষার্থী পান ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের হাতে মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত