ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

সচিবালয় নয়, গবেষণার মাঠ চাই—আলটিমেটামের পর শেকৃবি শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৩৫, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সচিবালয় নয়, গবেষণার মাঠ চাই—আলটিমেটামের পর শেকৃবি শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর

রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। নিজেদের গবেষণার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এবার এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেছেন। আগের দিন মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নতুন করে এই ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। পরে মেলার জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টলে ভাঙচুর চালানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগের দিন মেলার কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই তাঁরা মাঠে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

আগের দিন যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট চলছিল। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে পরীক্ষার কাজ বন্ধ করেন। পরে পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও নমুনা সংগ্রহে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো একটি সাইনবোর্ডও খুলে নিয়ে আসেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি তাঁদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও কৃষি গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে গবেষণার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গেট সরানোর আশ্বাস মেলা কর্তৃপক্ষের

মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেছেন, গেট সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলবো।”

তবে স্থাপনা সরানোর আশ্বাসের মধ্যেও মাঠের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে বিরোধের সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা

এর আগে মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা, জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। এ জন্য তিন দিনের সময়সীমাও দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শেকৃবির গবেষণা মাঠ নিয়ে বিরোধের জেরে এখন একদিকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তুতি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মাঠ পুনরুদ্ধারের আন্দোলন—দুইয়ের সংঘাতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। ভাঙচুরের ঘটনায় মেলার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিরোধের দ্রুত সমাধান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত