ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদে দ্রুত নিয়োগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়োগবিধি এবং পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খেলতে খেলতে শেখার ওপর গুরুত্ব

বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শেখানো এবং তাদের প্রকৃত শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শিখন উপকরণ বিতরণ করেন। খেলাধুলা ও হাতে-কলমে কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক পঠন ও গণনাদক্ষতাও পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনে দেখা যায়, শিখন উপকরণ ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় ও ধারণা সহজে বুঝতে পারছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে যে বিষয় বোঝাতে বেশি সময় লাগে, খেলনা ও ব্যবহারিক উপকরণের মাধ্যমে তা তুলনামূলক সহজে শেখা সম্ভব হচ্ছে। এসব উপকরণ শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।

মৌলিক দক্ষতার ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ববি হাজ্জাজ বলেন, গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতায় শিক্ষার্থীদের যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাইয়ের পাশাপাশি শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখলে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর শিখন উপকরণ ও পদ্ধতিগুলো কীভাবে আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত