৩৩ দিনের শাটডাউন শেষে ক্লাসে ফিরছে চুয়েট, উপাচার্য ইস্যুতে অনড় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
চুয়েট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
টানা ৩৩ দিনের অচলাবস্থার পর ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে অবস্থান থেকে সরে আসছেন না তাঁরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা এক খোলা চিঠিতে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত জানান। পরে দুপুরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভাতেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা চিঠিতে বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থায় তাঁদের শিক্ষাজীবন পিছিয়ে পড়ছে। তাঁরা আর নিজেদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না। তাই একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ক্লাসে ফিরতে চান। তবে ক্লাসে ফেরার অর্থ আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়। তাঁদের এক দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আবারও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যৌক্তিক দাবি আদায়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাইন মিহাদ প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তাঁরা সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চান। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবন সচল রাখার পাশাপাশি তাঁদের দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রত্যাশা করেন।
শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোন বিভাগে কবে ক্লাস শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ঠিক করবে। এ বিষয়ে সমিতির অন্য সিদ্ধান্তগুলো পরে বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হবে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায় এবং সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষা স্থগিত হয়।
আন্দোলনের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে ঢোকেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভবনটির সামনে অবস্থান নেন এবং উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভবনের ফটকে তালা দেওয়া হলে উপাচার্যসহ ১১ জন ভেতরে আটকা পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। পরে অসুস্থ বোধ করায় উপাচার্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
এরপর গত শুক্রবার নগরের সার্কিট হাউসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডাকেন উপাচার্য। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত এল। তবে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগের সঙ্গে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের সমাধান কতটা এগোয়, সেটিই এখন চুয়েটের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর