জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ-সার্বভৌমত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্দী আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বৈঠকের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।
মাহ্দী আমিন জানান, চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রম ছিল। এ ছাড়া জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার দাবি
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এর বাইরে বিশ্বনেতা, জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের দুটি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, এসব আয়োজনে জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও ই-হেলথ কার্ডের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এবং তাদের ৮০ শতাংশ নারী রাখার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটে পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘের একটি সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
তার ভাষ্য, সংকটটির মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একই সঙ্গে দুটি বিষয়ে কাজ করা প্রয়োজন—নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও চাপ বাড়ানো এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরার কথা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন।
তিনি জানান, ভাষণে অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’—রিকভার, রিস্টোর ও রিকনস্ট্রাক্ট—কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সাল কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
এফএইচ/বিএ/পিআর