নানার গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর পা, ফেনীতে তারেক রহমানকে ঘিরে আবেগ-উচ্ছ্বাস
ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৬, ১ অক্টোবর ২০২৬
নানার স্মৃতিবিজড়িত ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার পা রেখেছেন তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর এই প্রথম ফেনী সফর। আর সেই সফরের গন্তব্য এমন এক জেলা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর পরিবার ও শৈশবের স্মৃতির গল্প। তাঁর নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী আগমন ঘিরে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বাড়তি আবেগ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান। এরপর তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে এগিয়ে যায়।
এর আগে ঢাকা থেকে ফেনীর পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। গাড়িবহর অতিক্রমের সময় ফুল ছিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান অনেকে।
নানার বাড়ির জেলা, মায়ের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে
ফেনীর সঙ্গে তারেক রহমানের পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র বহু পুরোনো। তাঁর নানা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। একই সঙ্গে ফেনী-১ আসনের সঙ্গে তাঁর মা খালেদা জিয়ারও রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক স্মৃতি। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
সেই পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত এলাকাতেই এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আগমন। তাই তাঁর সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি পারিবারিক আবেগও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
বন্যা ঠেকাতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প
ফেনী সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসনের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন। পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটি গত ১৬ জুন একনেকে অনুমোদিত হয়। এর আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ থেকে কার্ড—দিনভর কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রীর সফরে রয়েছে পরিবেশ ও জ্বালানি খাতের কর্মসূচিও। ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার পর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কথা রয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেলে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সরকারপ্রধান হিসেবে এটি তারেক রহমানের একটি প্রশাসনিক সফর হলেও, নানার গ্রাম ও মায়ের স্মৃতিবিজড়িত ফেনীতে তাঁর এই আগমন সফরটিতে যোগ করেছে আলাদা এক আবেগের মাত্রা।
এফএইচ/বিএ/পিআর