ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

মোটরসাইকেলে এসে গ্রামে হামলা, নাইজেরিয়ায় ঝরল ২০ প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মোটরসাইকেলে এসে গ্রামে হামলা, নাইজেরিয়ায় ঝরল ২০ প্রাণ
নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে মোটরসাইকেলে এসে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশটির তারাবা রাজ্যের বিন্নারি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা এ তথ্য জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই মোটরসাইকেলে করে গ্রামে প্রবেশ করে বন্দুকধারীরা। এরপর তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে বাসিন্দারা দিকবিদিক ছুটে পালান। হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বিন্নারি গ্রামের বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা বলেন, হামলা থেকে বাঁচতে মানুষ চারদিকে ছুটে পালাচ্ছিল। কেউ জানত না, কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে।

আরেক বাসিন্দা সাইদু নুহু জানান, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তাঁরা ২০টির বেশি মরদেহ গুনেছেন। তখনো কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন।

তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের সহিংসতা চলছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল জিহাদি বিদ্রোহীদের তৎপরতায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল। অন্যদিকে তারাবা রাজ্যসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র ডাকাত দলও সক্রিয় রয়েছে।

এসব গোষ্ঠী প্রত্যন্ত গ্রামে হামলা চালানো, মুক্তিপণের জন্য মানুষ অপহরণ এবং কৃষক ও খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের মতো অপরাধ করে আসছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সরকারি উপস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল থাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে শনিবার নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়ে ১৫ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে নাইজেরিয়া জিহাদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র হামলা ও অপহরণের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: এএফপি

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত